UPDATED JULY 2005
২৫ জুন, ২০০৫

 


"স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে"

সংবাদ সম্মেলন


গত ২৫জুন সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশ এর আয়োজনে "স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে" সংবাদ সম্মেলন ৷ এতে সভাপতিত্ব করেন স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপের সভাপতি মো: আবুল হোসেন খান (চেয়ারম্যান, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ি), লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো: মতিউর রহমান তপন (চেয়ারম্যান, সরদহ ইউনিয়ন পরিষদ, চারঘাট, রাজশাহী), এছাড়া বক্তব্য রাখেন গ্রুপের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক (চেয়ারম্যান, পাদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ, লোহাগড়া, চট্টগ্রাম), প্রচার বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক বিএম ওয়াহিদুজ্জান লনি (চেয়ারম্যান, চলিশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, চরকলমা, অভয়নগর, যশোর), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুমী আখতার (সদস্য, সাতলা ইউনিয়ন পরিষদ, উজিরপুর, বরিশাল

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে স্বশাসিত ইউনিয়ন পরিষদ এডভোকেসি গ্রুপ-বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণ জেলা ও উপজেলাসহ
সবর্স্তরে নিবার্চিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান ৷ সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনের সকল স্তরে নিবার্চিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসকা পরিচালনা করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, সুপ্রীমকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা (কুদরত-ই-এলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ মামলার বায়, ১৯৯২) এবং এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের কাযর্ক্রম অনিবার্চিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ৷ যা খুবই হতাশাব্যঞ্জক ৷ এজন্য তারা অবিলম্বে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নিবার্চনের দাবি জানান



 

এছাড়া এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য (পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন) থোক বরাদ্দ এডিপি বরাদ্দের মাত্র ২.১২% ৷ গত বছর বরাদ্দ ছিল ২.২৯% এবং গত ১৫ বছরে গড় বরাদ্দ ছিল ২.৬৭% ৷ অর্থাত্‍ বাজেটের স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ এডিপির শতাংশ হিসেবে হ্রাস পেয়েছে ৷ এতে স্থানীয় সরকারের প্রতি সরকারের আন্তরিকতার অভাবই প্রতিফলিত হয় ৷ বাজেটে পিআরএসপি'র কথা বলা হলেও, পিআরএসপি বাস্তবায়নের মূল স্তম্ভ স্থানীয় সরকারকে উপেক্ষা করা হয়েছে

সামপ্রতিক সময়ে আলোচিত গ্রাম সরকার, স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও এ প্রতিষ্ঠানের জন্য গত বছরের তুলনায় ৫০% অর্থাত্‍ ৪০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে
৷ পক্ষান্তরে নিবার্চিত ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২০%৷ ইউনিয়ন পরিষদ সহায়তাখাতে বরাদ্দকৃত ১২০ কোটি টাকা প্রতি ইউনিয়নে ভাগ করলে হিস্যা দাঁড়ায় ২, ৬৬,০০০ টাকার মত ৷ যা খুবই সামান্য এবং এ ক্ষুদ্র বরাদ্দ দিয়ে একটি ইউনিয়নের উন্নয়নের চিন্তা করাটাও হাস্যাস্পদ



এছাড়া
আগে উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ টাকা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় করা হতো ৷ গত বছর থেকে উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা ও ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা নামে দুটি খাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে এ বছর ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৷ এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন এই ১৫০ কোটি টাকা কাদের মাধ্যমে খরচ হবে? এটা কি এমপিদের মাধ্যমে খরচ হবে? যদি তা হয় তাহলে এটা হবে ইউপি'র জন্য অশনি সংকেত৷ তাই উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতের টাকা যেন এমপিদের মাধ্যমে খরচ করা না হয়, এজন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানানো হয়

বাংলাদেশের মত গ্রাম প্রধান এবং দরিদ্র দেশে জনগণের জীবনমানের কাঙিক্ষত পরিবর্তনের জন্য সর্বাধিক ভূমিকা রাখতে পারে জনগণের সবচেয়ে কাছের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ
৷ একটি শক্তিশালী কার্যকর ও সায়ত্বশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এবং তাদের হাতে পযার্প্ত আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করলে, স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব ৷ এছাড়াও রাষ্ট্রীয় সম্পদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জনগণের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে কাযর্কর ভূমিকা পালন করতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ ৷ তাই সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ২০০৫-০৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে স্থানীয় সরকারের জন্য অধিক হারে বাজেট বরাদ্দ করাসহ এডভোকেসি গ্রুপের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়

এডভোকেসি গ্রুপের ১৩ দফা দাবিগুলো হচ্ছে;

১. সুপ্রীম কোর্টের ১৯৯২ সালের নির্দেশ অনুযায়ী (কুদরত-ই-এলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ) এবং সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে স্থানীয় সরকার আইনসমূহকে সংশোধন এবং স্থানীয় সরকারের উপজেলাসহ অন্যান্য স্তরে অবিলম্বে
নিবার্চন অনুষ্ঠান করা হোক
২. সংবিধান পরিপন্থী ইউনিয়ন পরিষদ আইন ১৯৮৩-এর ১২, ৬০, ৬১, ৬৫ ও ৮১ ধারা বাতিল করার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে স্বায়ত্ত্বশাসিত করা হোক

৩. সংবিধানের ৫৯, ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয়
পযার্য়ে সকল জনকল্যাণমূলক সরকারি কাযর্ক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটের অন্ততঃ এক-তৃতীয়াংশ, জনসংখ্যার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের জন্য বরাদ্দ করা হোক ৷ এজন্য একটি স্বাধীন স্থানীয় সরকার অর্থ কমিশন গঠন করা হোক  
৪. ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদের একাউন্টে দেয়া হোক

৫. স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে মাননীয় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (৬৫ অনুচ্ছেদ)
বহির্ভূত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হোক
৬. স্থানীয় সরকারকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা হোক

৭. ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে সকল হাট-বাজার, জল-মহাল ইজারা দেয়ার ক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদকে ফিরিয়ে দেয়াসহ নতুন আয়ের উত্‍স সৃষ্টির সুযোগ করা হোক

৮. ইউনিয়ন পরিষদকে জনগণের নিকট স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য প্রকাশ্য বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের কা
যর্ক্রম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হোক
৯. ইউনিয়ন পরিষদে নারীর সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হোক

১০. স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার প্রক্রিয়াকে জোরদার করার লক্ষ্যে গ্রাম্য আদালত আইন সংস্কার করা হোক

১১. গ্রাম সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হোক

১২. ইউনিয়ন পরিষদের জনবল বৃদ্ধি করা হোক

১৩. চেয়ারম্যান-মেম্বার সহ ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মানী ভাতা ও বেতন বৃদ্ধি করা হোক

 

Home  / Feedback

© 2005 local-democracy.org. All rights reserved.